রবিবার, ২৮ Jun ২০২৬, ০৩:১২ অপরাহ্ন
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার শুশুন্ডা গ্রামের মো. সিরাজ মিয়ার ছেলে আউয়াল (৫৪)। সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় সবাই তার মুখাপেক্ষী ছিলেন। দুই বছর আগে বড় মেয়ে শাহিনুরকে বিয়ে দিয়ে ছিলেন। মাদকসেবক স্বামীর যৌতুকের চাহিদা মেটাতে না পারায় সংসার ভাঙে তার।
সংসারে আরো তিন কন্যাসন্তান রয়েছে আউয়ালের। দ্বিতীয় মেয়ে কুহিনুর নবম তৃতীয় মেয়ে মাহমুদা সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। ছোট মেয়ে সামসুন নাহারের বয়স ৬ বছর। একমাত্র ছেলে শাকিল নবম শ্রেণিতে পড়ছে।
পরিবারের চাপ আর সন্তানদের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করতে হিমশিম খেতে হতো দিনমজুর আউয়ালকে। কারণ হঠাৎ এলাকায় কাজ কমে যায়। কিন্তু এতে সে দমে যাননি। স্বপ্ন বুনলেন নতুন কিছু করার। তাই কিছু জমানো টাকা আর বাদবাকি ধার-কর্জ করে চার লক্ষ টাকা ব্যয়ে তৈরি করলেন একটি ট্রলার। কিছু দিন এই এলাকায় কাজ পেলেও পরে কাজে ভাটা পরে। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া ও সংসারের চাকা সচল রাখতে আউয়াল ট্রলার নিয়ে বেশি কাজের আশায় পাড়ি দেয় চাঁদপুর জেলায়। স্বপ্ন ছিল শত কষ্ট করে হলেও সন্তানদের মানুষ করে পরিবারকে সুখী করবেন।
কিন্তু কঠোর পরিশ্রমী স্বপ্নবাজ আউয়ালের সব স্বপ্ন চিরতরে শেষ হয়ে গেছে। গত সোমবার সকালে চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদীতে বালুবোঝাই বাল্কহেডের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে তাদের ট্রলারটি ডুবে যায়। এতে ট্রলারের মালিক আউয়ালসহ পাঁচ শ্রমিক মারা যান। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে। স্ত্রী ও বড় মেয়ের আহাজারিতে এলাকায় নেমেছে শোকের ছায়া। গতকাল মঙ্গলবার সকালে শুশুন্ডা গ্রামে তাকে দাফন করা হয়।
আউয়ালের মৃত্যুতে দিশাহারা স্ত্রী মনিমালা বেগম বলেন, তাইনে সাগরে ডুইবা মরলেও আমগোরে ভাসাইয়া গেলেন সাগরে। এখন সন্তানদের নিয়ে কী করব, কীভাবে বাঁচব, ভেবে কূল পাচ্ছি না। এই বলেই বুক চাপড়ে বিলাপ করছিলেন মনিমালা বেগম।
স্থানীয় ইউপি মেম্বার মো. ফারুক ভূঁইয়া বলেন, পরিবারটি একেবারেই হতদরিদ্র। ধার-কর্জ করে চার লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি ট্রলার কিনেছিলেন তিনি। এখন ধারের টাকা দেবে, নাকি সংসার চলবে। পরিবারটি পথে বসার উপক্রম হয়েছে।